কেদারনাথ: যেখানে ভগবানপ্রেমী আর পাহাড়প্রেমীদের সহবস্থান!
- dbwebdesk
- Nov 6, 2019
- 2 min read
Updated: Jan 24, 2020
দুইখানি কুন্ড পাশাপাশি। একখানি স্নানের জন্য আর অন্যটা পুজার প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়। গৌরীকুন্ড আসলে উষ্ণ জলের প্রস্রবণ। এখানে স্নান সেরে গৌরী মন্দিরে পুজা দিয়ে তবে কেদারনাথ দর্শন। এখানেই দেবী পার্বতী ভগবান শিবকে অর্থাৎ কেদারনাথকে পাওয়ার জন্য ধ্যানে মগ্ন হয়েছিলেন। আবার গৌরী মন্দিরের পাশেই শিব পুজিত হচ্ছেন উমা মহেশ্বর মন্দিরে।

এখান থেকেই শুরু পায়ে হেঁটে কেদারনাথের চড়াইয়ের যাত্রা। আধ কিলোমিটার হাঁটার পর পাওয়া যাবে বুকিং অফিস। চড়াইয়ে ওঠার জন্য পালকি, কান্ধি এইসব বহনের মাধ্যমগুলি বুক করা যাবে এখানে।
আপনি পায়ে হেঁটে, পাল্কি, কান্ধিতে চেপে এমনকি হেলিকপ্টারে চেপেও কেদারনাথ দর্শনে পৌঁছাতে পারেন।

তবে প্রকৃতি যে অপার সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে রেখেছে এই চড়াই পথের বাঁকে বাঁকে, আপনি হেলিকপ্টারে চেপে তা অবশ্যই উপভোগ করতে পারবেন না। প্রথমদিকে না হলেও এক-দেড় কিলোমিটার চলার পর আপনি অবশ্যই শ্রান্তিবোধ করবেন, এবং বারে বারে দাঁড়াতে হবে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য। গৌরীকুন্ড থেকে 7 কিলোমিটার দূরে রামবাদাতে পৌঁছালে আপনি আর্ধেক পথ অতিক্রম করতে পারবেন। প্রায় ঘণ্টা তিনেক লাগবে এখানে পৌঁছাতে। পথে কত অজস্র ঝোরা, গ্লেসিয়ার, আর ভয়ংকর সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য চোখে পড়বে।

যতই লক্ষের কাছাকাছি পৌঁছাবেন ততই পথকষ্টের পরিমাণ বেড়ে যাবে। শেষের কয়েক কিলোমিটার অবশ্যই পথচলা কষ্টকর। তবে কষ্টও যে অনুপাতে বাড়বে পথের সৌন্দর্যও সেই অনুপাতে বাড়বে। হিমালয় তার সমস্ত সৌন্দর্য উজার করে আপনার চোখের সামনে আবির্ভূত হবে।
14 কিলোমিটার পথ শেষ পর্যন্ত অতিক্রান্ত হয়ে যাবে। আপনি এবার আপনার হোটেলে এসে পৌঁছাবেন। এখানে অবশ্য লাক্সারি হোটেলের আশা রাখবেন না। ছোট হোটেল, আশ্রম, কটেজ, জিএমভিএন হোটেলের সংখ্যা অবশ্য অনেক।

এখানে স্থানীয় পন্ডিতেরা আছেন যারা আপনার কেদারনাথ দর্শনে সহায়তা করতে পারেন।
কেদারনাথ হল দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে একটি এবং সর্বোচ্চ জ্যোতির্লিঙ্গ। ভগবান শিব এখানে জ্যোতির্লিঙ্গ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। রুদ্র হিমালয়ের পর্বতশ্রেণীর মধ্যে অবস্থিত এই বিখ্যাত মন্দিরটি মন্দাকিনী নদীর তীরে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 3500 মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।
কেদারনাথের বর্তমান মন্দিরটি অষ্টম শতাব্দীতে আদি গুরু শঙ্করাচার্য কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত। যেখানে পাণ্ডবরা মহাভারতের কালে এখানে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন তার লাগোয়া স্থানেই এই মন্দিরটি গড়ে তোলা হয়।

2013 সালে কেদারনাথ ভয়ংকর বন্যা আর ধসের কবলে পড়ার পর যদিও তীর্থযাত্রীদের সংখ্যা কিছুটা কমে গিয়েছিল কিন্তু সরকারী উদ্দ্যোগ গ্রহণের কারণে 2018 থেকে আবার উল্লেখযোগ্যভাবে তীর্থযাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এবছর আগস্ট পর্যন্ত 28,04,000 জন তীর্থযাত্রী এই ধাম দর্শন করে ফেলেছেন।
চার ধাম হাইওয়ে- সড়ক যোজনাটির উদ্বোধন হলে তীর্থযাত্রীদের সংখ্যা আরো অনেক বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা।





Comments