ডেস্টিনেশন থাইল্যান্ড, "ফির ভি দিল হে হিন্দুস্তানি" - সুমিত সূত্রধর
- dbwebdesk
- Oct 23, 2019
- 3 min read
Updated: Jan 24, 2020
রোজকার ঘামে ভেজা জীবন ,অফিস আর বাড়ির টানাপোড়েন, সেই চিরপরিচিত টিকে থাকার লড়াই আর দম বন্ধ করা পরিবেশ থেকে একটু পালিয়ে পাড়ি দিয়েছিলাম থাইল্যান্ড। দিনটা ছিল ১৮ সেপ্টেম্বর। এই দিনটার মাহাত্ম্য পরে অবশ্য জেনেছি।
আমরা এয়ার এশিয়ার ফ্লাইট পরিষেবা বেছে নিয়েছিলাম। এই মুহূর্তে কম খরচে বিমানে চড়ার সুযোগ দেওয়াতে এদের থেকে আগে আর কেউ নেই! আমি আর আমার গিন্নী এবার চললাম প্রথমবার বিদেশ সফর করতে।
১৮ সেপ্টেম্বর আমরা কাকভোরে গিয়ে পৌঁছলাম ব্যাঙ্কক। যারা অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যাবহার করেন তাদের জন্য বলি, ফ্লাইট থেকে নামার পর চোখের নিমেষে দেখবেন সময় পরিবর্তন হয়ে গেছে (ব্যাংককে এসে দূর ব্যাঙ বলতেই পারেন! যদিওবা ওটা টাইম জোন পরিবর্তনের ফল)। ব্যাঙ্ককের ডন মুয়াং এয়ারপোর্ট থেকে যাবতীয় ইমিগ্রেশন এর কাজ মিটিয়ে যেটা প্রথমেই করতে হল সেটা "অন আ্যরাইভাল ভিসা"।

৩১ অক্টোবর অবধি ওটা বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে। শুধুমাত্র থাকতে হবে রিটার্ন টিকিট আর হোটেল বুকিং। আপনাকে যেটা জিজ্ঞেস করতে পারে তা হল থাইল্যান্ডে আসার কারণ, ব্যাস। সুবিধার জন্য মাথা পিছু ১০০০০/- থাই ভাট বিনিময়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করে নিন এয়ারপোর্ট থেকেই।
ভিসা হয়ে গেলে আমরা আবার ফ্লাইটে চেপে এসে পৌঁছালাম ফুকেটে। সকাল তখন প্রায় ৯:৩০ । যেহেতু আমাদের আগে থেকেই বুক করা ছিল, তাই ড্রাইভার এসে আমাদের এয়ারপোর্ট থেকে নিয়ে গিয়েছিলো কোকোনাট ভিলেজ রিসর্টে। দারুণ জায়গা। পাটং বিচের কাছে। ওখানে অসামান্য থাই স্ট্রিট ফুড পাওয়া যায়। বিচের ধারে বসে সময় কখন কেটে যাবে বোঝার জো নেই। পাটং, কারন , কাটা বিচ, সবগুলোই অসাধারণ।
ফুকেটের হিল রোড ধরে উপরে উঠলেই পৌঁছানো যাবে ভিউ পয়েন্টে, ওখান থেকে ফুকেটের সব বিচ দেখা যায়। বলে রাখা ভালো ফিফি আইল্যান্ডে যেতে চাইলে সকাল সকাল বেরোন, কারণ সমুদ্রের জল তখন পরিষ্কার থাকে আর ওরা বিকেল ৪-৫ টার মধ্যে হোটেলে পৌঁছে দিয়েও যায়।

ওয়াকিং স্ট্রিটে হাঁটলে আপনার অবশ্যই চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। এখানকার মানুষের জীবনের গুণগত মান দেখে আপনার ঈর্ষা হতেই পারে। আড়াই দিন ফুকেটে কাটিয়ে আমরা বেরিয়ে পড়লাম পাটায়ার উদ্দেশ্যে।
আমাদের ফ্লাইট হল থাই স্মাইলের। নামলাম ব্যাংককের সুভার্ণভূমি এয়ারপোর্টে। ওখান থেকে প্রাইভেট গাড়ি করে পাটায়ার লফ্ট্ হোটেল। পাটায়া এসে, আসেপাশে এত ভারতীয় হোটেল আর রেস্টুরেন্ট দেখে আপনার ভুল হতেই পারে যে আবার দেশে ফিরে এলেন নাকি!
এখানে আলকাজার ক্যাবারে শো এককথায় অসাধারণ। আমাদের অবশ্য ফার্স্ট রো-এ, ভি আই পি সিটে বসে শো দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছিল, যা ভোলার নয়!

পরদিন কোরাল আইল্যান্ড। সবুজ জল-নীল আকাশ-সাদা বালি। এখানে অনেক রকমের স্পোর্ট অ্যাকটিভিটি হয়, তবে আমরা শুধু বানানা রাইড করেছিলাম (আলাদা কিছু খসেছে পকেট থেকে)। ঘন্টা খানেক জলের সাথে খুনসুঁটি, তারপর স্পীডবোটে চেপে সমুদ্র চিড়ে হোটেলে ফেরা। এখানে নর্থ ইন্ডিয়ান, সাউথ ইন্ডিয়ান, দুই রকমের খাবারই পাওয়া যায় তাই আর লোভ সামলাতে পারলাম না। জানেনই তো বিদেশে গিয়ে যতই বিদেশী ফুড খাই না কেন, "ফির ভি দিল হে হিন্দুস্তানি!"
যেহেতু ব্রেকফাস্টটা হোটেলে বাফেট এবং কমপ্লিমেন্টারি ছিল তাই একটু পেট ভরেই খেয়ে নিতাম। আড়াই দিন পর আমাদের শেষ গন্তব্য থাইল্যান্ড এর রাজধানী, ব্যাঙ্কক।

চারিদিকে আকাশচুম্বী বিল্ডিং, শপিং মলের দাদাগিরি। সুসজ্জিত রাস্তা, পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে অসম্ভব সুন্দর নদীপথ।
এখানে "চাও ফরায়া প্রিন্সেস রিভার ক্রুজ"এ ভ্রমণ , বলিউডি গান আর নৈশভোজের মেলবন্ধন চিরকাল মনে থাকবে। নদীর দুধারে সাজানো শহর রাতের বেলায় আরও বেশী ঝলমলে।
সাফারি ওয়ার্ল্ডে না দেখা অনেক পশু পাখি সযত্নে রাখা আছে। কাউ বয় শো, ডলফিন শো, ওরাংওটাং শো, না জানি আরও কত কি, মন ভোলাবেই। অভয়ারণ্যের ভিতরে সামনে দিয়ে ঘুরে যাওয়া সিংহের দল, দেখলে মনে হবে যেন বলছে এসেছ ঠিক আছে, কিন্তু এখানে আমিই রাজা!
সব মিলিয়ে সাতদিন ভালোই কেটেছিল। কত কিছু দেখলাম। এখনও কতকিছু বাকি রয়ে গেল। ফিরলাম ২৫ সেপ্টেম্বর। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যখন পৌঁছালাম তখন রাত প্রায় আড়াইটে ।
লোকে বলে, থাইল্যান্ড পুরো ঘুরতে গেলে নাকি একবারে হয় না, হয়ত আবার যাবো কোনো এক রাতের ফ্লাইটে, এবার যেমন গেলাম। পরে শুনেছি, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোসও নাকি ১৮ সেপ্টেম্বর প্রায় ৭৫ বছর আগে একই গন্তব্যে পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য একটা মহান উদ্দেশ্যে!
সুমিত সূত্রধর





Comments