top of page

"গরীব মানুষগুলোর পাশে থাকা আমার ব্রত"


আমি dr অঙ্কিতা চক্রবর্তী। বারুইপুর অন্তর্গত দমদমা গ্রাম অঞ্চল বৃন্দাখালি থানা বারুইপুর, আশ্রমের নাম বিরজা মুক্তি মার্গ পীঠ। 2013 সাল থেকে আমি এই দমদমা গ্রামে একটি আশ্রম পরিচালনা করি। গ্রামের গরীব মানুষগুলোর পাশে থেকে কাজ করাই আমার ব্রত।আজ 7বছর ধরে এই গ্রামের মানুষদের সাথে কাজ করে আসছি, বহূ রকম ভাবে।পানীয় জল রেশন কন্যদায় গ্রস্থ পিতার পাশে দারানো, বিদ্যার জন্য আর্থিক সহযোগ করা ইত্যাদি। বেশ চলছিল এইভাবে। বাধ সাধল যেদিন নভেল কোরোনা ভারাস মার`ণ রোগটি যেদিন মারক আকার ধারণ করে আমাদের দেশে থাবা বসালো। আমাদের গ্রামটিকে রক্ষা করতে হবে।এই ভেবে আমরা লক ডাউন এর আগে থেকে প্রচার সুরু করি।কিন্তু কাজ করতে গিয়ে দেখলাম তাদের কাছে কোনো সঠিক তথ্য না থাকায়,বেশিরভাগই মানুষ ছিলেণ উদাসীন। তবে মহিলাদের দেখেছি অনেকটা তৎপর। ছোট শিশুদের হাতে সাবান দেখেছি। তবে এনারা সবাই হ্যান্ড বীলের কথা বলছিলেন। কেউ কেউ এমন কথাও বলছিলেন রোগ হোল কোথায় যাবো?


গোটা দিনটা এনাদের সাথে কাটিয়ে ভীষণ অসহায় লেগেছিল। কথা বলার জন্য আমি মাস্ক ব্যবহার করিনি।তা ছাড়া আমি বদ্ধ গাড়িতে ছিলাম।প্রত্যেকের সাথে দুরত্ব বজায় রেখেছিলাম। হায় রে মোর দুর্ভাগা দেশের সন্তান, প্রচার করতে গিয়ে দেখলাম এনাদের কারোর এতটুকু সাধারন জ্ঞান টুকুও নেই! সেই দোকানে দোকানে চলছে আড্ডা। প্রচার শুনে ভিড় হচ্চে।কিন্তু হাসির ফোয়ারা আর টিপ্পুণি দিয়েসোচ্চার করছিল আমাদের। কিন্তু আমাদের দমিয়ে রাখা অসম্ভব করে গ্রামের ভিতরে মাচ্পুকুর, দমদমা,জয়াতলা,ঘাত্কান্দা,

বোলবামনি,পাটারীপাড়া,পাগ্ররুলদহ,খুতিবেড়িয়া, হিম্চি, পশ্চিম দমদমা,উত্তর ভাগ, মেজ্লা খালী, কালাবুরু ইত্যাদি গ্রামে গ্রামে অসচেতন মানুষ গুলোকে চেতন করতে গিয়ে দেখলাম কি ভয়ংকর গ্রামের অবস্থা। এনাদের এতটুকুও চেতনাই নেই, একবার এই মারণ রোগ প্রবেশ করলে কি হবে? ভাবতে গেলে শিউরে উঠলাম, তখন শুধুই মৃত্যুমিছিল।হাহাকার ক্রন্দন এই উপেক্ষার হাসি পারবে কি তখন সেই হাহাকার গুলো ফুৎকারে উড়িয়ে দিতে?

 
 
 

Comments


bottom of page