বর্ধমান ১ ব্লকের নতুনগ্রামে পড়ুয়াদের স্বার্থে 'দুয়ারে ক্লাস'।
- dbwebdesk
- Jul 17, 2021
- 2 min read

'দুয়ারে ক্লাস'। চিত্র
ডনবেঙ্গল : 'দুয়ারে পাঠশালা' ! পাড়ায় পাড়ায় শিশু শ্রেণীর পড়ুয়াদের এক জায়গায় ডেকে চলছে শিক্ষাদান। করোনার জেরে স্কুল বন্ধ রয়েছে। তবে বন্ধ নেই পঠন-পাঠন। কয়েকজন ছাত্র পাগল শিক্ষকের উদ্যোগে এক বছর ধরে চলছে নিয়ম করে পাঠদান। কখনো কারোর বাড়ির উঠোনে, কখনো গাছ তলায়। আবার কখনো কারোর ফাঁকা ঘরে করোনা বিধি মেনে চলছে পড়াশুনা। বর্ধমান ১ ব্লকের নতুনগ্রাম অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ হাবিবুল্লা গত জুলাই থেকে পড়ুয়াদের স্বার্থে 'দুয়ারে ক্লাস' নিয়ে চলেছেন।
এই প্রথম নয়, অভিনব কাজ করার জন্য এই প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এর আগেও সরকার পুরস্কৃত করেছে । ২০১৫ সালে নির্মল স্কুল বিদ্যালয় পুরস্কার পায় এই স্কুল। ২০১৮ সালে শিশু মিত্র বিদ্যালয় হিসেবে রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থান পায়। ১৬৬ জন পড়ুয়া নিয়ে এই স্কুলের ছয় জন শিক্ষক শিক্ষিকা অনেক স্বপ্ন দেখেন। অতিমারী পরিস্থিস্তিতেও বিদ্যালয় বন্ধ। কিন্তু তবুও শিক্ষক রা নিয়মিত পড়াচ্ছেন। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় নিয়মিত স্কুলে আসার সমস্যা রয়েছে তাই আপাতত, এখন ৩ জন শিক্ষক পড়াচ্ছেন। উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।
পড়ুয়ারা দিনের পর দিন ক্লাস না করে সব কিছুই ভুলতে বসেছে। শিশু শিক্ষায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। এমন পরিস্থিতি একদিকে যেমন তাদের সঠিক মানসিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে অন্যদিকে নিয়মতান্ত্রিক জীবনে অনভ্যস্ত হওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে শিশুদের মধ্যে। সেই সমস্যা এড়াতে নিজেই উদ্যোগ নেন হাবিবুল্লা সাহেব। নিজেই একটি রুটিন বানিয়ে নেন। সব থেকে আগে নজর রাখা হয় করোনা বিধিতে। শিশুদের স্বাস্থ্যের দিকে গুরুত্ব দিয়েই সাজানো হয়েছে সপ্তাহের রুটিন। তবে মাঝে মাঝে জায়গা পরিবর্তন হয় ক্লাসের।
প্রথম শ্রেণী থেকে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত মোট ১৬৬ জন পুড়য়াকে সপ্তাহে একদিন করে ক্লাসে ডাকা হয়। চারটি ক্লাসের পড়ুয়াদের আট ভাগে ভাগ করে চলে নিয়মিত পঠনপাঠন।
প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ সাহেব বলেন, প্রত্যেকটি ক্লাসে ৩০ থেকে ৩৫ জন পড়ুয়া আছে। তাদেরকে দুটি ভাগে ভাগ করে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। পড়ুয়ারা অনেক কিছুই ভুলে গিয়েছে। পরীক্ষা যেহেতু হচ্ছে না, তাই সাধারণ জ্ঞানের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অভিভাবক অভিভাবকেরা ভীষণ খুশি। কারণ, তারা টিউশনি পড়াতে দিয়েও সন্তুষ্ট ননম কারণ স্কুল নেই, পরীক্ষা নেই। তাই পড়ার আগ্রহ কম। কিন্তু স্কুলের মত এই দুয়ারে পাঠাশালায় আসতে তাঁদের আগ্রহ বাড়ছে।
শিক্ষক আরও বলেন, আমিও ওই স্কুলের ছাত্র। শিশু শ্রেণীর পড়ুয়াদের এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় প্রত্যেকের ভিত তৈরি হয়। কিন্তু করোনা সব কিছুই বদলে দিচ্ছে। তাই সপ্তাহে একদিন করে আমরা একটু পড়ার অভ্যাস তৈরি করছি।





Comments